যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ভারতের হীরা শিল্প। বিলাসবহুল এই পণ্যের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেই সম্প্রতি ২৬ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের ‘হীরার শহর’ হিসেবে খ্যাত গুজরাটের সুরাটে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র সুরাট শহর, যা একসময় মধ্যস্থতাকারী ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর থাকত। তবে এখন সেই চিত্র পুরো উল্টো—শূন্য দোকান, নেই ক্রেতা কিংবা সরবরাহকারীর ভিড়।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের রত্ন ও গয়না রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। চীন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদা কমে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ হীরাখাতের জন্য যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।
এ অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা। ইন্ডিয়ান ডায়মন্ড ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান দিনেশ নবাদিয়া বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। ওখানে ভোক্তাদের চাহিদা বা আমদানি কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমাদের ওপর।”
হীরার বাজারে ভারতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গত বছর উদ্বোধন করা হয় সুরাট ডায়মন্ড বোর্স—বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরা কেনাবেচা ও রফতানি কেন্দ্র। ৬৬ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি বিশাল এ কমপ্লেক্সটি যেখানে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন অনিশ্চয়তা ঘনিয়ে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্কারোপ না কমালে এবং বিকল্প বাজার না খুঁজে পেলে ভারতের হীরা শিল্প দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়তে পারে। হীরা ব্যবসায়ীরা এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায়, তবে সে আশা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন সংশ্লিষ্টরা।